+880 1XXX-XXXXXX info@lionsschoolrangpur.edu.bd
লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজ, রংপুর এর পূর্ব ও ইতিকথা

লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজ, রংপুর এর পূর্ব ও ইতিকথা

লায়ন্স ক্লাব অব রংপুরের বরেণ্য মানবদরদী লায়নবৃন্দ মানব সেবার ব্রত নিয়ে ১৯৮৩ সালে ১২ ফেব্রুয়ারী ৪০ জন শিক্ষার্থী, ৪ জন শিক্ষক নিয়ে রংপুর শাপলা চত্বরের নিকটস্থ আদর্শ বিদ্যালয়ের কয়েকটি শ্রেণি কক্ষ ভাড়া নিয়ে “লায়ন্স কিন্ডার গার্টেন স্কুল” এর শুভ যাত্রা শুরু করেন। একটি আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর শুভ উদ্বোধন করেন লায়ন্স ক্লাব জেলা ৩১৫- এ২ বাংলাদেশ এর সম্মানিত গভর্ণর লায়ন ডা: জি মজিদ। যাঁদের মহৎ উদ্যোগে “লায়ন্স কিন্ডার গার্টেন স্কুলটি” প্রতিষ্ঠিত হয় তাঁরা হলেন— লায়ন ডা: আব্দুস সাত্তার, সভাপতি, পরিচালনা পরিষদ (তৎকালীন), লায়ন মেজর এ এস এম সামসুল আরেফিন, লায়ন ডা: দীনেশ চন্দ্র ভৌমিক, লায়ন এস এম সালেক, লায়ন এস এম খালেক, লায়ন মুনীরুজ্জামান, লায়ন অধ্যাপক ডা: এম নূরুজ্জামান, লায়ন ভবতোষ দত্ত, লায়ন এ্যাড: আব্দুর রশীদ চৌধুরী, লায়ন এ্যাড: দীপক কুমার সাহা, লায়ন আবু হায়দার মো: আখতার, লায়নেস সামসুন্নাহার, লায়নেস নিলুফা খালেক, লায়নেস ফজিলাতুন নাহার চৌধুরী, লায়ন জুলফিকার হায়দার সহ আরো অনেকে। তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টার ফল আজকের এই “লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজ, রংপুর”। সেই থেকে লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজ, রংপুর, লায়ন্স ক্লাব অব রংপুর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত। এটি এই ক্লাবের একটি স্থায়ী মানব সেবা প্রকল্প। এই মহৎ ব্যক্তিগণ আমাদের নিকট চির অম্লান হয়ে থাকবেন।

অধ্যক্ষ মিস রাহেলা খাতুন, বি,এ,বি,টি স্কুল প্রশাসন সহ ৪ (চার) জন প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক হলেন মিসেস বুলা ভৌমিক, তিনি পরবর্তীতে সহকারী প্রধান শিক্ষক, ০৩/১১/২০১৩ থেকে ৩০/০৬/২০১৫ পর্যন্ত, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ০১/০৭/২০১৫ থেকে ০৯/০১/২০২০ পর্যন্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, এছাড়া মধুছন্দা ভট্টাচার্য্য, নাজমুন নাহার দীনা, আশতাক মহল খান গ্রেস শিক্ষক ছিলেন। ১৯৮৪ সালে ভাড়া করা আদর্শ স্কুল থেকে লায়ন্স ক্লাব অব রংপুর, জি.এল.রায় রোড ঠিকানায় এর নিজস্ব স্থাপনায় কয়েকটি কক্ষে ও ফাঁকা জায়গায় তৈরি কয়েকটি টিনসেড শ্রেণি কক্ষে প্রতিষ্ঠানটিকে স্থানান্তর করা হয়। ১৯৮৪ সালে ৩য় শ্রেণি, ১৯৮৫ সালে ৪র্থ শ্রেণি, ১৯৮৬ সালে ৫ম শ্রেণির পাঠদান শুরু হয়। ১৯৮৯ সালে প্রথম প্রাথমিক/প্রাইমারি বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে সকলে বৃত্তি প্রাপ্ত হয়, এর মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করে রংপুর শিক্ষা সমাজে এক আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। ১৯৯১ সালে নিম্ন মাধ্যমিক পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয় এবং প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে “লায়ন্স কিন্ডার গার্টেন এন্ড হাইস্কুল” নামকরণ করা হয়। ১৯৯২ সালে ১ জানুয়ারী রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে মাধ্যমিক শিক্ষার অনুমতি লাভ করে। ১৯৯৪ সালে ১ জানুয়ারী প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমিক শাখা এমপিও ভুক্ত হয় এবং ঐ সালেই শিক্ষার্থীরা প্রথম S.S.C পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সাফল্য লাভ করে।

১৯৯৯ সালে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান জনাব মো: মুনীরুজ্জামান ও অধ্যক্ষ মো: ফজলুর রহমান দায়িত্ব পালন কালে প্রতিষ্ঠানটিকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং ১০ (দশ) শতক জমি ক্রয় করে college ভবনের জন্য লায়ন ডা. আব্দুস সাত্তার ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ২০০০ খ্রি. মার্চ-এপ্রিল মাসে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। ২০০১ সালে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান লায়ন জনাব মো: মুনীরুজ্জামান মহোদয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাননীয় শিক্ষা উপদেষ্টা জনাব ব্যারিস্টার ইসতিয়াক আহমেদ মহোদয়ের সাথে দীর্ঘ সময় যোগাযোগ করে college শাখার মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখাসহ ৩টি বিভাগে মোট ১৫টি বিষয় নিয়ে পাঠদান অনুমতি পান। ততক্ষণে ঐ বছর একাদশ শ্রেণিতে নিয়মিত ভর্তির সময় শেষ হয়। রংপুর শহরের মাইকিং করে ফাইন ডেটের মধ্যে মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখাসহ মোট ১৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা সম্ভব হয়। ১৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে কয়েকজন S.S.C/২০০১ এ ১/২ বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থী ছিল যাদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা ছিল।

অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: ফজলুর রহমানসহ ১৮ জন শিক্ষক নিয়ে college শাখার পাঠদান শুরু হয়। college পর্যায়ে প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষকবৃন্দ হলেন- জনাব মো: রেজাউল করিম, মো: আল হেলাল, ফারজানা ইয়াসমিন, মো: ইনামুল হাসান, হোসনে আরা মাহমুদা, মো: উকিল উদ্দিন, সঞ্জিত কুমার সরকার (দুরন্ত), মো: শায়েব মিয়া, মো: আব্দুল ওয়াহেদ, মো: মেছের উদ্দিন, মো: শাহজাহান মিয়া (রাজা মিয়া), মো: জাহাঙ্গীর আলম, মো: মোজাফফর হাসান, মাসুমা নাসরিন, সানজিদা খানম প্রভাষক হিসেবে এবং তাহিরা আখতার বানু, মো: নূরুন্নবী ও মো: আখতারুজ্জামান প্রদর্শক হিসেবে পাঠদান করেন। প্রতিষ্ঠানটি স্কুল থেকে কলেজে পরিণত হওয়ার পর ১৩/০৪/২০০৩ খ্রি. তারিখে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে এর নাম “লায়ন্স কিন্ডার গার্টেন এন্ড হাইস্কুল” থেকে পরিবর্তন করে “লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজ, রংপুর” নামকরণ করা হয়।

২০০৩ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথম অংশগ্রহণ করে এবং ১/২ বিষয়ে এসএসসি-২০০১ এর ফেল করা ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীরাও কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে, ঐ সময় যেহেতু শিক্ষার্থীর প্রচণ্ড সংকট ছিল সে কারণে college পর্যায়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও কম ছিল। ফলে college শাখার নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ প্রথমের দিকে বিনা বেতনে, পরবর্তীতে ৫০০/- টাকা বেতনে দীর্ঘদিন চাকরি করেন।

প্রতিবছর একাদশ শ্রেণির ভর্তির সময় college শাখার শিক্ষকগণ কখনো মটর সাইকেলে আবার কখনো পিক আপ ভ্যান ভাড়া করে নীলফামারী ও লালমনিরহাটের উপজেলাগুলোতে ভর্তির পোস্টিংয়ে করে থাকতো। এর মধ্যে একবার একাদশ শ্রেণির ভর্তির আমি আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন কালে পোস্টিং করতে গিয়ে জনাব মো: মোজাফফর হাসান, প্রভাষক, এমএলএসএস মো: আলমগীর কবীর ও মো: আব্দুল কুদ্দুস তারাগঞ্জ থানার নিকটস্থ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। অনেক চড়াই-উৎরাই করে college শাখার উন্নতি হতে থাকে। college শাখার নতুন ও অনভিজ্ঞ শিক্ষকদের সহযোগিতা নিয়ে জনাব মো: আল হেলাল ও আমি college পর্যায়ে এমপিও করার জন্য শুরু থেকে প্রচেষ্টা চালাতে থাকি।

গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান জনাব লায়ন প্রফেসর ডা. মো: নাজমুল ইসলাম মহোদয় দায়িত্ব পালন কালে ০২/০৫/২০০৫ সালে অভিজ্ঞ প্রফেসর জনাব মো: নিজামুদ্দিন, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সচিব পদ থেকে অবসর গ্রহণ করে লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজ, রংপুর এর অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। তিনি শিক্ষকদের ও শিক্ষার্থীর সংখ্যার দূরবস্থা দেখে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেন। তৎকালীন college শাখার শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে সাথে নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বার বার যাওয়া আসা করে একাডেমিক স্বীকৃতি লাভের চেষ্টা চালান। তার সফল চেষ্টায় ১ লা জুলাই ২০০৬ রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে (college শাখা) একাডেমিক স্বীকৃতি লাভ করেন। তিনি বিভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠানকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। সে সময় এসএসসি পর্যায়ে বিজ্ঞান ও মানবিক শাখা চালু ছিল এবং এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪০/৪৫/৫০ জনের মতো। তিনি ২০০৮ সালে নবম, দশম শ্রেণিতে বাণিজ্য শাখা যা বর্তমানে ব্যবসায় শিক্ষা শাখার নামে পরিচিত, এর পাঠদান অনুমতির ব্যবস্থা করেন। এর পর থেকে স্কুল ও college শাখার শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ২০২৫ এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৭৮ জন এবং এইচএসসি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫৫৯ জন।

কলেজের উষা লগ্ন থেকেই একাডেমিক স্বীকৃতি ও এমপিও করার কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে আমার দায়িত্ব পালন করার সুযোগ হয়। তার ধারাবাহিকতায় college শাখার এমপিও করার উদ্দেশ্যে ১৪/০৪/২০১৮ সালে ১লা বৈশাখ অনুষ্ঠানে রংপুরের কৃতি সন্তান সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ মহোদয়কে college পরিদর্শনে এনে সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং college শাখাকে এমপিও করার জন্য দাবি উত্থাপন করা হয়। এটাই ছিল তাঁর প্রথম ও শেষ বিদ্যালয়টি পরিদর্শন।

০৭/০১/২০১৪ তারিখ থেকে ২০/০২/২০১৯ খ্রি. পর্যন্ত লায়ন ডা. অনিমেষ মজুমদার গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ও অধ্যক্ষ মিসেস বুলা ভৌমিক দায়িত্ব পালন কালে লায়ন ডা. আব্দুস সাত্তার ভবনের পাশে ০.৬ (ছয়) শতাংশ জমি ক্রয়সহ ০৬টি টিন সেড শ্রেণি কক্ষ তৈরি করা হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টায় সামগ্রিক ফল হিসেবে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান জনাব লায়ন আবু হায়দার মো: আখতার ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জনাব মো: রেজাউল করিম মহোদয়ের দায়িত্ব পালন কালে ২০১৯ সালে ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকার ২৭৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিও ঘোষণা করলে সেখানে লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজ রংপুর এর college শাখাটি এমপিওভুক্ত হয়, যা ০১/০৭/২০১৯ তারিখ থেকে এমপিও কার্যকর হয়। ২০১৯ খ্রি. প্রতিষ্ঠানটির স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২২০০ জন এবং college পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১১০০ জন, মোট ৩,৩০০ জন। ২০১৯ সালের শেষ দিকে কোভিড-নাইনটিন (করোনা ভাইরাস) নামে বিশ্বব্যাপী এক ভয়াবহ রোগের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরাসরি পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ২ বছর অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম চলতে থাকে ও এতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যায়।

১৪/১২/২০২১ থেকে ১৩/১২/২০২৩ মেয়াদে গভর্নিং বডির সম্মানিত চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা লায়ন জনাব মো: আকবর হোসেন মহোদয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা আবারও বৃদ্ধি পেতে থাকে। এছাড়াও সহপাঠ্যক্রমের উন্নতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিকশিত করার জন্য সংগীত, নৃত্য, হাতের লেখা সুন্দর, বিভিন্ন রকম খেলাধুলা করানোর জন্য শিক্ষক নিয়োগ এবং এর কার্যক্রম পরিচালনা করেন। একাডেমিক শৃঙ্খলা ও শিক্ষার মান-উন্নয়নের জন্য তিনি ১৩-০২-২০২২ তারিখে জনাব আফিয়া আখতার মৌসুমকে প্রাইমারী কো-অর্ডিনেটর, জনাব আফরোজা বেগমকে মাধ্যমিক শাখার কো-অর্ডিনেটর এবং college ও সার্বিক একাডেমিক বিষয় দেখাশুনার জন্য জনাব মো: উকিল উদ্দিনকে উপাধ্যক্ষ পদে এবং ০৯-০২-২০২২ তারিখে জনাব মো: রায়হান শরীফ মহোদয়কে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ প্রদান করেন। তিনি শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকবৃন্দকে নিয়ে পৃথক পৃথকভাবে মতবিনিময় করেন এবং মতবিনিময়ের সংকলিত নির্দেশনাপত্র শিক্ষার্থীদেরকে সরবরাহ করা হয়। শিক্ষার্থীরা তা অনুসরণ করে, এর ফলে ২০২২ সালে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে অত্র প্রতিষ্ঠান দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে ১০ম স্থান লাভ করে, ২০২৩ সালে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ৭ম স্থান লাভ করে।

২০২৩ সালের মাঝামাঝিতে ২৬ শতক জমি ক্রয়, 6 শতক জমি লিজ গ্রহণসহ প্রায় ১.৩২ একর জমি রয়েছে। নতুন নির্মিত লায়ন্স ভবনের ১৭টি শ্রেণি কক্ষ, নামাজ ঘর, শহীদ মিনার নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন, সংগীত ও নৃত্য চর্চার জন্য পৃথক সাংস্কৃতিক শ্রেণি কক্ষ, ফ্রি-ফ্রাইডে চিকিৎসকের কক্ষ, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক চিকিৎসকের কক্ষ নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ, ২৫০ আসনের স্মার্ট শ্রেণি কক্ষ, ৫০০ আসনের অডিটোরিয়াম স্থাপন, উন্নতমানের লিফট স্থাপন, লায়নিজমের ফাউন্ডার মেলভিন জোন্স এর স্মারক ম্যুরাল স্থাপন ও প্রতিষ্ঠানকে সার্বিক নিরাপত্তা বেষ্টনিতে আনার জন্য সিসি ক্যামেরা আওতায় আনা হয়েছে। অটোমেশনের মাধ্যমে শিক্ষা তথ্য ব্যবস্থাকে অনলাইন ও আধুনিকায়ন করা হয়। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞান বিভাগের জন্য সুসজ্জিত পদার্থ বিজ্ঞান ল্যাব, রসায়ন বিজ্ঞান ল্যাব, জীববিজ্ঞান ল্যাব, কম্পিউটার ল্যাব ও একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি আছে।

২০২৪ সালের ১ম দিকে আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দায়িত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষার্থী ভর্তির চাহিদা বৃদ্ধির কারণে স্কুল পর্যায়ে ৬টি শাখার বৃদ্ধির মাধ্যমে ৩০০ শিক্ষার্থীর আসন বাড়ানো হয়, college পর্যায়ে বিজ্ঞান বিভাগে ৭০টি মানবিক বিভাগে ৫০টি আসন দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে বৃদ্ধি করা হয়, বর্তমানে বিজ্ঞান বিভাগে ৪৩০, মানবিক বিভাগে ২০০, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৫০টি আসন রয়েছে। স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষে প্রাথমিক শাখা, মাধ্যমিক শাখা ও উচ্চ মাধ্যমিক শাখা স্তরভিত্তিক শিক্ষক বিন্যাস করা হয়। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান মনস্ক বিষয়ে আগ্রহী করে তোলার জন্য অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে বিজ্ঞান প্রজেক্ট মেলার ব্যবস্থা করা হয় এবং হিসাব ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

২০২৪-২৫ মেয়াদে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান জনাব লায়ন অধ্যাপক ডা: আখতারুজ্জামান ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জনাব মো: ইনামুল হাসান মহোদয়ের পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানটি শৃঙ্খলা, সহ শিক্ষা ও পাঠ উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এর ফলে ২০২৫ সালে জাতীয় বিজ্ঞান প্রজেক্ট প্রতিযোগিতায় ৭ম শ্রেণির ছাত্র মো: শাহরিয়ার রহমান অর্নব ৪র্থ স্থান লাভ করে, নারী কাবাডি প্রতিযোগিতায় বিভাগীয় চ্যাম্পিয়নের গৌরব অর্জন করে। ২০২৫ সালে প্রাথমিক পর্যায়ে ৮০৯ জন, মাধ্যমিক পর্যায়ে ১৫৭৩ জন, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ১২৭০ জন, মোট ৩৬৫২ জন, শিক্ষার্থী পাঠ গ্রহণ করে। বর্তমানে college পর্যায়ে ৩২ জন, স্কুল পর্যায়ে ৬২জন, অফিস স্টাফ ১০ জন, ল্যাব সহকারী ৪জন, সাপোর্ট স্টাফ ৪১জন মোট ১৪৯ জন কর্মরত আছেন। এর মধ্যে ৫৩জন শিক্ষক কর্মচারী এমপিও ভুক্ত। প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোর মধ্যে ৬ তলা বিশিষ্ট লায়ন ডা: আব্দুস সাত্তার ভবন, ৬ তলা বিশিষ্ট লায়ন্স ভবন, ৩ তলা বিশিষ্ট লায়ন ডা. দীনেশ চন্দ্র ভৌমিক ভবন, একটি টিনসেড ভবন ২টি গ্যারেজ, একটি ইনডোর ক্রীড়া কমপ্লেক্সসহ রয়েছে।

অর্জন ও গৌরবসমূহ

  • ২০০৩ সালে রংপুর জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা লাভ করেন।
  • ২০০৩ সালে মিসেস শাহানা সুলতানা সহকারী শিক্ষক হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন।
  • ২০০৯ সালে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনায় দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে ৯ম স্থান অর্জন করে।
  • ২০২২ সালে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে ১০ম স্থান অর্জন করে।
  • ২০২৩ সালে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে ৭ম স্থান অর্জন করে।
  • ২০২৫ সালে জাতীয় বিজ্ঞান প্রজেক্ট প্রতিযোগিতায় ৭ম শ্রেণির ছাত্র মো: শাহরিয়ার রহমান অর্নব ৪র্থ স্থান লাভ করে।
  • প্রতি বছর এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করে সরকারি মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করে থাকে।
  • প্রতি বছর এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জেলা ও বিভাগীয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় যেমন- চিত্রাংকন, সংগীত, রচনা, খেলাধুলা ইত্যাদি ক্ষেত্রে কৃতিত্বের বজায় রেখে চলেছে।
  • অনেক গরীব-বিত্তহীন, মধ্যবিত্ত থেকে বিত্তশালী পরিবারের সন্তানরা এখানে পড়ালেখা করে থাকে। প্রতি বছর গরীব শিক্ষার্থীদের বেতন মওকুফ বা আর্থিক সহায়তা বাবদ প্রায় ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়ে থাকে।
  • এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে ক্রীড়াবিদ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ অনেক সমাজকর্মী। তাদের মধ্যে অনেকে সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার দৃষ্টান্ত এই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থী জনাব মো: মোবাশ্বের হাসান মহোদয় ২০২৩ সাল থেকে রংপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।